জরুরি অবস্থা
শিশুর জীবন ঝুঁকিতে মনে হলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। এই পাতার যেকোনো বিপদ চিহ্ন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কাছের হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান।
ফোনে পরামর্শ নিতে গিয়ে হাসপাতালে যেতে দেরি করবেন না। বিপদ চিহ্ন থাকলে আগে রওনা দিন, পথে ফোন করুন।
এখনই সাহায্য নিন
- ৯৯৯ (999) জাতীয় জরুরি সেবাঅ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসের জন্য। টোল-ফ্রি, ২৪ ঘণ্টা খোলা।পরিচালনায়: বাংলাদেশ পুলিশ ও আইসিটি বিভাগ। সূত্র: www.999.gov.bd
- ১৬২৬৩ (16263) স্বাস্থ্য বাতায়ন (জাতীয় স্বাস্থ্য কল সেন্টার)ডাক্তারের পরামর্শের জন্য। ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার কথা বলেন, যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন থেকে কল করা যায়।পরিচালনায়: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (এমআইএস)। সূত্র: 16263.dghs.gov.bd
নবজাতকের বিপদ চিহ্ন (জন্ম থেকে ২৮ দিন)
এই লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে শিশুকে হাসপাতালে নিন
- বুকের দুধ বা খাবার ঠিকমতো খেতে পারছে না
- খিঁচুনি হচ্ছে
- খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে (মিনিটে ৬০ বার বা তার বেশি)
- শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ জোরে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে
- নিজে থেকে নড়াচড়া করছে না, শুধু নাড়া দিলে নড়ছে
- জ্বর (৩৭.৫° সেলসিয়াসের বেশি) বা শরীর খুব ঠাণ্ডা (৩৫.৫° সেলসিয়াসের কম)
- জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় নবজাতক হলুদ হয়ে যাচ্ছে, অথবা যেকোনো সময় হাতের তালু ও পায়ের তলা হলুদ হয়ে গেছে
জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন। ডাক্তারের পরামর্শের জন্য স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ (২৪ ঘণ্টা)।
সূত্র: WHO recommendations on maternal and newborn care for a positive postnatal experience (2022)
নবজাতকের বিপদ চিহ্ন সম্পর্কে
ওপরের নবজাতকের বিপদ চিহ্নের বাক্সটি জন্ম থেকে ২ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য। এর লক্ষণগুলো WHO-র ২০২২ সালের নির্দেশিকায় জন্ম থেকে ২৮ দিন বয়সী নবজাতকের বিপদ চিহ্ন হিসেবে দেওয়া আছে। আর WHO-র শিশু-স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশিকা (IMCI) ২ মাস বয়স পর্যন্ত ছোট শিশুর জন্যও এ ধরনের লক্ষণকেই গুরুতর অসুখের চিহ্ন ধরে। তাই শিশুর বয়স ২ মাস না হওয়া পর্যন্ত ওপরের বাক্সটিই দেখুন। প্রতিটি লক্ষণের সহজ ব্যাখ্যা পড়ুন: নবজাতকের বিপদ চিহ্ন।
২ মাসের বেশি বয়সী শিশুর বিপদ চিহ্ন
IMCI অনুযায়ী, ২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর মধ্যে নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ থাকলেই তা বিপদ চিহ্ন। এসব ক্ষেত্রে শিশুকে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।
- শিশু কিছু পান করতে পারছে না, বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
- যা খায় বা পান করে, সব বমি করে ফেলে দিচ্ছে।
- খিঁচুনি হচ্ছে, বা হয়েছে।
- শিশু খুব নিস্তেজ, বা অচেতন।
কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে শিশু শান্ত অবস্থায় থাকার সময় এক মিনিট ধরে শ্বাস গুনুন। IMCI অনুযায়ী দ্রুত শ্বাস মানে:
- ২–১১ মাস: মিনিটে ৫০ বা তার বেশি বার শ্বাস;
- ১২ মাস–৫ বছর: মিনিটে ৪০ বা তার বেশি বার শ্বাস।
দ্রুত শ্বাস দেখলে সেদিনই ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সঙ্গে ওপরের কোনো বিপদ চিহ্ন থাকলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
সূত্র: WHO – Integrated Management of Childhood Illness (IMCI) chart booklet (March 2014)।
বড় শিশুর ডায়রিয়ায় বিপদ চিহ্ন
- শিশু খুব নিস্তেজ বা অচেতন।
- কিছু পান করতে পারছে না, বা খুব কম পান করছে।
- চোখ বসে গেছে, পেটের চামড়া চিমটি দিয়ে ছাড়লে খুব ধীরে ফেরে।
- পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে।
সূত্র: WHO – Diarrhoeal disease। বিস্তারিত: শিশুর ডায়রিয়া: খাবার স্যালাইন ও জিংক।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে
- শিশুকে মায়ের বুকে ত্বকে-ত্বকে লাগিয়ে উষ্ণ রাখুন।
- শিশু খেতে পারলে বুকের দুধ দিতে থাকুন। ডায়রিয়া হলে অল্প অল্প করে খাবার স্যালাইন দিন।
- শিশুর টিকা কার্ড ও আগের চিকিৎসার কাগজপত্র সঙ্গে নিন।
এই পাতা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য। বিস্তারিত: চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কতা।